অল্প বয়স খেকে ছিলাম খুব রোমান্টিক। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর বাবাকে হারিয়ে ব্যবসার কারণে এবং উচ্চশিক্ষা লাভ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রোমান্স করার সময় বা সুযোগ ছিল না। ইচ্ছা ছিল বিয়ের পরই রোমান্স করবো বৌয়ের সঙ্গে। কিন্তু ত্রিশ বছরে খুব উচ্চ শিক্ষিত ও স্মার্ট বৌ পেলেও বৌ-এর মধ্যে রোমান্টিকতার ছিটাফোটাও নেই।
আমার স্ত্রী খুব গুনী । একজন মহিলার বিভিন্ন গুনাবলী যদি বিশ্লেষণ করা যায়, যদি প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নাম্বার ধরা হয় তাহলে সে পাবে নিম্নরূপঃ-
১. আদর্শ মা------------------------------৮০%
২. আদর্শ কন্যা----------------------------৮০%
৩. ঘরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে-----------৯০%
৪. রূপচর্চা সাজসজ্জা ও অন্যের কাছে উপস্থাপক---৯০%
৫. রান্না করা, বাচ্চার দেখাশোনায়-------------৮৫%
৬. আদর্শ স্ত্রী-------------------------------৫০%
৭. প্রেমিকা বা রোমান্টিকতায়-----------------১০%
যদিও উপরের মার্কশিট আমার স্ত্রীর পছন্দ হবেনা তবও তাকে এই নাম্বারই দেবো।
কিছু উদাহরণ দিই-
আমার ইচ্ছা যখনই কলিংবেল বাজাবো তখনই সে দরজা খুলে হাসি মুখে স্বাগতম জানাবে। কিন্ত দেখতে পাই তার মুখ নয়, তার নিতম্ব। কোনো মতে, দরজার হুড়কো-টা খুলেই নিতম্ব দোলাতে দোলাতে ভেতরে ঢুকে যায়।
শীতের রাতে লেপের নিচে তাকে জড়িয়ে ধরে শুতে চাই। কিন্তু আমার পাশে শূইলে তার বলে ঘুম হয়না। দুজনে দুপাশে থাকি, মাঝে খাকে কন্যা।
বিয়ের পর পর একবার পাশাপাশি বসে টিভিতে এক সিনেমা দেখার সময় একটা রোমান্টিক দৃশ্য দেখে ভালবাসায় আক্রান্ত হয়ে যখন তার চিবুক ধরে আদর করতে গেছি তখন তার ঝামটা, তোমার জন্য শান্তিতে একটু টেলিভিশন দেখার জো আছে? তোমার কাছে বসলেই খোচা-গুতা!
ওর কথা শুনলে ভালবাসা পালানোর পথ পায় না।
শূনেছি রোমান্টিকতা সংক্রামক। কিন্তু আমার বেলায় তা খাটে না। একবার কােনো এক কারণে তাকে অনেক আদর করার পর যখন প্রতি আদরের অপেক্ষায় আছি তখন সে জানালো , কাল ছেলের স্কুলে বেতন দিতে হবে যেন আমি ভূলে না যাই। কোন সময়, আর কি কথা!
যাক আমার স্ত্রীর এমন ক্ষমতা যে মাইক্রোওভেনে গরম করা বস্তুকেও মাত্র একটি কথার দ্বারা ডিপ ফ্রিজের বস্তুতে পরিণত করতে পারে। সিনেমা, নাটকের ভালোবাসার দৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করলে সে বলে, ওসব সিনেমা-না্টকে হয়, তা বাস্তবের জন্য নয়।
আমার সমবয়সী বন্ধুরা যখন সপ্তাহে দুই তিনবার স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করে, আমার দশ দিনেও একবার প্রেম করা হয়ে উঠেনা।
ভালোবাসার কথা বললে তার উত্তরে সে বলে, তোমাকে তো অনুমতি দিয়েই রেখেছি। আরো একটি বিয়ে করো।
আমি পরীক্ষা করে দেখেছি সে আমাকে খুব ভালোবাসে।
আমিও তাকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু স্ত্রীর এই অভালোবাসা ও রোমান্টিকহীনতা সুলভ ব্যবহারে খুব কষ্ট পাই। সব খুলে বলেছি, বোঝাতে চেয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমার এই রোমান্টিক মন কেবলই স্ত্রীর ভালোবাসার জন্য কেঁদে মরে। আমার মত এরকম হয়তো অনেকে আছে, কিন্তু নিরবে কষ্ট পাওয়া ছাড়া কিছু করার নাই।

No comments:
Post a Comment